বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জীবনী নিয়ে একটি তথ্যবহুল আলোচনা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ব্যক্তিজীবন

স্বাধীন বাংলাদেশের জনক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১ ৭ই মার্চ (বুধবার; ৪ঠা চৈত্র, ১৩২৬; ২৫ জমাদিউস সানি, ১৩৩৮ হিজরি) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ লুতফর রহমান এবং মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। বাব-মা তাকে খোকা বলে ডাকতেন।

বঙ্গবন্ধুর স্কুল জীবন শুরু হয় গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। তৃতীয় শ্রেণীতে তিনি গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। পরে স্থানীয় মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন। ১৪ বছর বয়সে ১৯৩৪ সালে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হলে একটি চোখ কলকাতায় গিয়ে অপারেশন করা হয়।

১৮ বছর বয়সে ১৯৩৮ সালে বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে তার বিবাহ হয়। তাদের ঘরে ২ মেয়ে এবং তিন ছেলে জন্ম গ্রহণ করে। তারা হলেন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং সবার ছোট শেখ রাসেল।

১৯৪২ সালে এসএসসি পাশ করার পর তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। এখানে তিনি বেকার হোস্টেলের ২৩ ও ২৪ নাম্বার রুমে থাকতেন। ১৯৪৬ সালে বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ সালে এই কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ আইন বিভাগে ভর্তি হন। স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।


ছাত্র আন্দোলন ও রাজনীতি
 

শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই মুসলিম লীগ এর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৪০ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৩ সালে যোগ দেন  প্রগতিশীল সংগঠন বেঙ্গল মুসলিম লীগে । ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি পূর্ব পাকিস্থান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৮ সালে ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনে শুরু থেকে শেখ মুজিব সামনে থেকে সক্রিয় ছিলেন।

১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের সমর্থনে তিনি ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনের কারণে শেখ মুজিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হলে শেখ মুজিব প্রথম যুগ্ন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৯ সালের ১৪ অক্টোবর গ্রেফতার করে শেখ মুজিবকে প্রায় ২ বছর ৫ মাস আটক রাখা হয়। জেলে থাকা অবস্থায় ভাষার দাবীতে তিনি মহিউদ্দিন আহমদকে সাথে নিয়ে ১৯৫২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন শুরু করে ১৭ দিন অনশন চালু রাখেন। জেলখানা থেকে ভাষা আন্দোলনকারীদের সাথে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে তাকে ঢাকা জেল থেকে ফরিদপুর জেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। ছাড়া পাওয়ার পর ডিসেম্বরে তিনি চীনে বিশ্বশান্তি সম্মেলনে যোগ দেন।

১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদ এবং ১৯৫৫ সালে গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৪ সালে পূর্বপাকিস্তান সরকারের ত্রাণ ও কৃষিমন্ত্রী হন এবং ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দলকে সুসংগঠিত করার জন্য ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মুজিব মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ৭ আগস্ট তিনি চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারি সফরে বের হন।

১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন চালু করলে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন। বঙ্গবন্ধু ১৯৬১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে কাজ করার জন্য ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৬২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়। জুনে ছাড়া পাবার পর ২৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু লাহোর যান যেখানে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় মোর্চ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠিত হয়।

১৯৬৪ সালের ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়। ১৯৬৩ সালে মোহাম্মদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর ১৯৬৬ সালের ১ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা উত্থাপন করেন। এই ৬ দফা ছিলো বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের রূপরেখা।  

১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে ১ নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। এই মামলায় শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে এবং গণআন্দোলনের মুখে পশ্চিম পাকিস্থান প্রশাসন তাকে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি দেয় এবং মামলা প্রত্যাহার করে। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠনের আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেন। এই সমাবেশেই ছয় দফা সংবলিত ছাত্রদের ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় পূর্ব পাকিস্তানের নামকরণ করেন “বাংলাদেশ”। কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে মানচিত্র থেকে ‘বাংলা’ শব্দটিকে মুছে ফেলার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে যা তখন শুধু ‘বঙ্গোপসাগর’ এর নামের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যেতো। তাই তিনি পূর্ব পাকিস্থানের পরিবর্তে এই অঞ্চলের নামকরণ করেন “বাংলাদেশ”। 

এরপরেই আসে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন। ১৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক পছন্দ করেন। ৭ ডিসেম্বর হওয়া এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের মোট ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন জিতে নেয় এবং প্রাদেশিক পরিষদের মোট ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন জিতে নেয়। কিন্তু এরপর পশ্চিম পাকিস্তান প্রশাসন আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে টালবাহানা শুরু করে।

১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে জুলফিকার আলী ফুট্টোর বিভিন্ন দাবীর মুখে ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিত করেন। বঙ্গবন্ধু দলের সভা শেষে ২ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল আহবান করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এ এক ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে স্বাধীনতার ডাক দেন। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। তিনি আরো বলেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্।  প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে”। এরপর তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু

১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ শুরু হওয়া ক্ষমতা হস্তান্তর আলোচনা ব্যর্থ হলে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় জেনারেল ইয়াহিয়া ঢাকা ত্যাগ করেন। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে ২৬ মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫শে মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন । সেখানে তিনি বলেনঃ

This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh. Final victory is ours.

১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধুকে করা হয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজউইক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭১ এর ৫ এপ্রিল Poet of politics বা রাজনীতির কবি উপাধি দেয়। কিন্তু ঐদিকে ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সামরিক জেলে গোপনে বঙ্গবন্ধুর বিচার করে তাকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। কিন্তু দেশ-বিদেশের দাবির মুখে তা কার্যকর করতে পারেনি পাকিস্থান সরকার।

১৬ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ-ভারত মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্থানের করাচির মিয়াওয়ানালি কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে তিনি লন্ডনে যান। ৯ জানুয়ারি ১০৭২ এ দিল্লি আসেন এবং সেখান থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন দেশ বাংলাদেশে। ১২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এ বছরেই ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করেন যা ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়।

১৯৭৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। এক পর্যায়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীলতা আনতে ১৯৭৪ সালের ৬ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়।  

২৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গমন করেন। ১৯৭৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় ভাষণ দেন।

মৃত্যু

স্বাধীন বাংলাদেশের দুষ্কৃতিকারী কিছু সংখ্যক সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে হত্যা করে। তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান। এটি ছিলো দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণ্য রাজনৈতিক হত্যাকান্ড।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করার পর এই হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য “ইনডেমনিটি অ্যাক্ট” বাতিল করেন। ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব আ ফ ম মহিতুল আলম বাদী হয়ে মামলা করেন। আদালতের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সর্বশেষে ১২ জন আসামীর মৃত্যুদন্ড জারি থাকে।

পদক এবং সম্মাননা

১৯৭৩ সালের ২৩ মে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ফ্রান্সে বঙ্গবন্ধুকে শান্তিতে ‘জুলিও কুরী’ পদক দেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদক পান ২০০৩ সালে। ২০২০ সালে তিনি ভারত সরকারের গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ রয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো,’ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দি ফিল্ড অফ ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ২০২০ সালে ইউনেস্কোর ২১০ তম অধিবেশনে সিদ্ধান্ত নেয়া এ পুরস্কার ২০২১ সাল থেকে দেয়া শুরু হবে।

error: Content is protected !!