রবীন্দ্র পরবর্তী সাহিত্য – উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, কবিতা ও নাটক

উপন্যাস

উপন্যাস বড় আকারের গদ্য সাহিত্য বিশেষ। এর ইংরেজি পরিভাষা Fiction. ইতালিয় Novella(নভেলা) শব্দ থেকে উপন্যাসবাচক ‘novel’ শব্দের উৎপত্তি ঘটেছে। উৎপত্তিগতভাবে উপন্যাস গদ্যে রচিত ছোট বা ক্ষুদ্রাকার কাহিনিকে নির্দেশ করে, কিন্তু সমগ্র জীবন জগৎ চিন্তার প্রকাশ সক্ষমতায় সর্বদা এগিয়ে। বাংলা উপন্যাস মানবসমাজ ও সভ্যতার ধারায় প্রভাববিস্তারী হয়ে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথ পূর্ব ও তার পরবর্তী উভয় যুগেই স্বতন্ত্রভাবে গদ্যের নের্তৃত্ব দিয়েছে উপন্যাস, তথা পূর্ণাঙ্গ বড় গল্প। যে বর্ণনাত্মক রচনায় মানুষের বাস্তব জীবনকথা লেখকের জীবন সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে অভিব্যক্ত হয়, তাকেই উপন্যাস বলে।

 

প্রকরণ

উপন্যাস বিষয়বস্তু, শৈল্পিক উদ্দেশ্য, গুরুত্ব বা ঝোঁক প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে নিম্নোক্ত প্রকরণে বিভক্ত-

১। সামাজিক উপন্যাস

২। রাজনৈতিক উপন্যাস

৩। ঐতিহাসিক উপন্যাস

৪। মনস্ত্বাত্তিক উপন্যাস

৫। আঞ্চলিক উপন্যাস

ছোটগল্প

ছোটগল্পের উৎপত্তি আধুনিক ক্রম উত্তরণের পথ ধরে ঘটেছে। শৈল্পিক সুষমা, সংবদ্ধরূপ ও গুরুত্বের দিক থেকে ছোটগল্প অনন্য। অল্পসময়ে পড়ে শেষ করা ও পূর্ণাঙ্গ শিল্প উপভোগের তৃপ্তি দান করে ছোটগল্প। বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ছোটগল্প রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ছোটগল্পের শ্রেণিবিন্যাস

১। মানবসম্পর্ক বিশ্লেষণমূলক গল্পঃ ব্যক্তি সম্পর্কের বিচিত্র দিক এজাতীয় গল্পে বিধৃত হয়।

২। সমাজ বিষয়ক গল্পঃ সমাজ জীবনের বিচিত্র প্রসঙ্গের উপস্থাপন ঘটে এজাতীয় গল্পে। এ শ্রেণীর গল্পে বিশ্লেষণের দক্ষতা ও গভীরতায় রাজনীতির তত্ত্ব, আদর্শ ও ঘটনার প্রতিফলন ঘটে।

৩। মনস্তাত্ত্বিক গল্পঃ এ শ্রেণির গল্পে মানবজীবনের রহস্যময় দিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। এ তিনটি উপশাখার মধ্যে প্রেমসম্পর্ক, প্রকৃতির পটভূমিতে মানব অস্তিত্বের কর্ম ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার রূপায়ণ ঘটে।

প্রবন্ধ

প্র(প্রকৃষ্ট) বন্ধন যার, সে ধরণের রচনাকে প্রবন্ধ বলা হয়। বুৎপত্তিগত ভাবে প্রবন্ধ এরকম- প্র+ √বন্ধ + অন। কোনো একটি বিষয়ে মানুষের চিন্তাভাবনা, সংস্কৃতি, সভ্যতা, সাহিত্য, বিজ্ঞান নানা বিষয়ে তথ্য ও তত্ত্ব সংবলিত গদ্যই প্রবন্ধ। বাংলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য বিষয় বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে বাংলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য হয়ে উঠেছে বৈচিত্র্যধর্মী। কোনো মননশীল ভাব কিংবা তথ্য বা তত্ত্ব উপযুক্ত ভাষার মাধ্যমে যুক্তি-পরম্পরায় সুসংহতভাবে প্রকাশিত হয়ে শিল্পরূপ লাভ করলে আমরা তাকে প্রবন্ধ বলি।

প্রবন্ধের শ্রেণীবিভাগ

বিষয়ের প্রকৃতি ও উপস্থাপন বৈশিষ্ট্য বিচারে প্রবন্ধকে প্রধানত ২টি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যথা-

১। বস্তুনিষ্ঠ বা তন্ময় প্রবন্ধ

২। ব্যক্তিনিষ্ঠ বা মন্ময় প্রবন্ধ

কবিতা

কবিতা মহত্তম মৌলিক শিল্প প্রকরণ। সাহিত্যের গদ্যরীতিকে আশ্রয় করে কবিতা হয়ে ওঠে শিল্পের আধার। সাধারনত, গীতিকবিতা দিয়ে শুরু হলেও নানা ধারায় সমৃদ্ধ হয়েছে কবিতা। কাব্যনাট্য, মহাকাব্য কবিতার পরিসরকে বিস্তৃত করেছে। বাংলাদেশের কাব্যসাহিত্য সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে নিয়মিত চর্চা ও পাঠে। এস,টি, কোলারিজ-এর মতে, শব্দের সুনিয়ন্ত্রিত বিন্যাসই গদ্য আর যথোপযোগী শব্দের অবশ্যম্ভাবী বাণীবিন্যাসই কবিতা।

কবিতার শ্রেণীবিভাগ

১। বস্তুনিষ্ঠ বা তন্ময় কবিতা

২। ব্যক্তিনিষ্ঠ বা মন্ময় কবিতা

রবীন্দ্র পরবর্তী নাটক

মঞ্চে অভিনয়ের জন্য নাট্যচর্চা শুরু। বিষয়বস্তুকে দৃষ্টিগ্রাহ্য করে তোলার অনন্যতা নাটকের মূল শক্তি। নাটকে সংলাপ উচ্চারণ ও ঘটনা অভিনয় করে কাহিনি বিবৃত হয়। নিঃসন্দেহে, বাংলা নাটকের ধারা অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রখ্যাত সমালোচক এলিজাবেথ ড্রু নাটকের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে-“ নাটক হচ্ছে জীবনের রূপায়ণ যা রঙ্গমঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে দৃষ্টিগোচর হয়”।

নাটকের শ্রেণীবিভাগ

১। বিয়োগান্তক

২। মিলনাত্মক

৩। প্রহসন  

error: Content is protected !!