বাংলাদেশের নাটক

নুরুল মোমেন (১৯০৮-১৯৯০)

বাংলাদেশের নাটক জগতে নুরুল মোমেন এক অনন্য স্থান লাভ করেছেন। যুদ্ধবিরোধী চেতনার ধারন এই নাট্যকার তাঁর নাটকের মাধ্যমে যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। ঐতিহ্য অনুসারী বিষয়বস্তু অবলম্বনে নাট্য রচনা তাঁর প্রিয়। ‘নেমেসিস’ নাটক রচনা করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটের আলোকে।

উল্লেখযোগ্য নাটক-

রূপান্তর, যদি এমন হতো, নয়াখান্দান, আলোছায়া, শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে, যেমন ইচ্ছা তেমন ইত্যাদি।

রম্যগ্রন্থ-

বহুরূপ, নরসুন্দর, হিংটিংছট

সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৮-১৯৭৫)

নাটক-

শকুন্ত উপাখ্যান, সিরাজউদ্দৌলা, মহাকবি আলাওল

শওকত ওসমান (১৯১৯-১৯৯৮)

নাটক-

আমলার মামলা, অস্কর-লস্কর, বাগদাদের কবি, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা

নীলিমা ইব্রাহীম (১৯২১-২০০২)

নাটক-

দুয়ে দুয়ে চার

আসকার ইবনে শাইখ (১৯২৫-২০০৯)

আসকার ইবনে শাইখ ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনে প্রচুর নাটক লিখেছেন। তাঁর নাটক সংখ্যা প্রায় ২০০টি। তাঁর প্রকৃত নাম মুহম্মদ ওবায়দুল্লাহ।

নাটক-

বিদ্রোহী পদ্মা, দুরন্ত ঢেউ, অগ্নিগিরি, প্রতীক্ষা, তিতুমীর, রক্তপথ, পদক্ষেপ, অনেক তারার হাতছানি, শেষ অধ্যায়, কন্যা-জায়া-জননী, রাজপুত্র, মেঘলা রাতের তারা, লীলা কণক, কর্ডোভার আগে, রাজ্য-রাজা-রাজধানী ইত্যাদি।

সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫-২০১৬)

নাটক-

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়(১৯৭৬), গণ নায়ক(১৯৭৬), নুরুলদীনের সারাজীবন(১৯৮২), এখানে এখন(১৯৮৮), ঈর্ষা, যুদ্ধ যুদ্ধ ইত্যাদি।

  • ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত কাব্যনাটক।

মমতাজউদ্দিন আহমদ (১৯৩৫- )

স্বনামধন্য নাট্যকার ও নাট্যব্যক্তিত্ব মমতাজউদ্দিন আহমদ মৌলিক নাটক রচনার পাশাপাশি রূপান্তরিত নাটক ও নাটকের নবরূপায়ণও ঘটিয়েছেন।

নাটক-

স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা, বিবাহ, কি চাহ শঙ্খচিল, এই সেই কণ্ঠস্বর, প্রেম বিবাহ সুটকেস, রাজা অনুস্বারের পালা, ক্ষত বিক্ষত, সাত ঘাটের কানাকড়ি, ফলাফল নিম্নচাপ, আমাদের শহর, বকুলপুরের স্বাধীনতা, পুত্র আমার পুত্র, হরিণ চিতা চিল, রাক্ষুসী ইত্যাদি।

টীকা-

  • ‘কি চাহ শঙ্খচিল’ নাটকে যুদ্ধকালে নারীদের অপরিমেয় যন্ত্রণা ও বেদনার ইতিহাস শৈল্পিক বর্ণনায় উপস্থাপিত হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে সর্বহারা নারীদের বুকফাটা আর্তনাদ।
  • ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’ নাটকে ফুটে উঠেছে স্বৈরাচার শাসিত অসহনিয় এক কুৎসিত সময়ের কিছু নষ্ট চরিত্রের সঙ্গে সহজ সরল নির্ভীক মানুষের সংগ্রাম-সাহসিকতা-আত্মত্যাগের ইতিকথা।
  • ‘আমাদের শহর’ নাটকটি আমেরিকান নাট্যকার Thorton Wilder এর ‘Our Town’ নাটকের অনুবাদ। এটি তিন অঙ্কবিশিষ্ট নাটক।
  • ‘রাক্ষুসী’ নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাক্ষুসী’ গল্পের নাট্যরূপ।
  • ‘পুত্র আমার পুত্র’ নাটকটি ‘শাহনামা’-র কাহিনী অবলম্বনে রচিত।

আবদুল্লাহ আল মামুন (১৯৪৩-২০০৮)

নাটক-

সুবচন নির্বাসনে, এখন দুঃসময়, এবার ধরা দাও, শাহজাদীর কাল নেকাব, চারিদিকে যুদ্ধ, এখনও ক্রীতদাস, মেরাজ ফকিরের মা, কোকিলারা, তৃতীয় পুরুষ, আমাদের সন্তানেরা ইত্যাদি।

সেলিম আল দীন (১৯৪৮-২০০৮)

আধুনিক বাংলা নাটক এর ‘নাট্যাচার্য’ নামে খ্যাত সেলিম আল দীন বাংলার লোকজ উপাদানকে ব্যবহার করে নানারকম নীরিক্ষা করেছেন। মঞ্চরীতির জগতে তাঁকে মুক্তমঞ্চের উদ্ভাবক বলা হয়। নাটকে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখাকে একীভূত করা, চিন্তায় ঐতিহ্য, লোকায়ত ঢং, লোকজ উপাদানের ব্যবহার নাটক রচনায় তাঁর স্বকীয়তা।

নাটক-

জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, এক্সপ্লোসিড ও মূল সমস্যা, মুনতাসির ফ্যান্টাসি, চরকাকড়ার ডকুমেন্টারি, কিত্তন খোলা, কেরামত মঙ্গল, হাত হদাই, চাকা, যৈবতী কন্যার মন, সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক, শকুন্তলা, হরগজ, বাসন, তিনটি মঞ্চ নাটক, ঢাকা ইত্যাদি।

মামুনুর রশীদ (১৯৪৮- )

নাটক-

গিনিপিগ, ইবলিশ, ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, জয় জয়ন্তী, খোলা দুয়ার, মে দিবস, এখানে নোঙর, অববাহিকা, নীলা, সমতট, পাথর, লেবেদেফ ইত্যাদি।

error: Content is protected !!