বাংলাদেশের কবি ও তাদের কাব্যগ্রন্থ

বাংলাদেশের কবি ও তাঁদের কাব্যগ্রন্থ

আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্য অংশ থেকে বাংলাদেশের কবি ও তাঁদের কাব্যগ্রন্থ নিয়ে অন্তত ৩-৪ মার্কের প্রশ্ন আসে বিসিএস সহ সকল চাকুরির পরিক্ষায়। তাই সর্বাধিক সংখ্যক কমন পেতে এক নজরে দেখে নিন বাংলাদেশের কবি ও তাঁদের কাব্যগ্রন্থ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

বেগম সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯)

আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্য এর শ্রেষ্ঠ মহিলা কবি বেগম সুফিয়া কামাল।

কাব্যগ্রন্থ-

সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, মন ও জীবন, উদাত্ত পৃথিবী, অভিযাত্রিক ইত্যাদি।

আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫)

কাব্যগ্রন্থ-

রাত্রিশেষ [১ম কাব্যগ্রন্থ], ছায়া হরিণ, সারাদুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাব, দুহাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ

সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৮-১৯৭৫)

তিনি ‘সমকাল’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

কাব্যগ্রন্থ-

প্রসন্ন প্রহর, বৈরীবৃষ্টিতে তিমিরান্তিক, বৃশ্চিক লগ্ন

সৈয়দ আলী আহসান (১৯২২-২০০২)

তিনি একয়াধারে একজন কবি, সমালোচক ও অধ্যাপক। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের ইংরেজি অনুবাদক।

কাব্যগ্রন্থ-

অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, উচ্চারণ, আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা ইত্যাদি

কবিতা-

আমার পূর্ব বাংলা, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, ত্রয়ী

ড. আশরাফ সিদ্দিকী (১৯২৭- )

কাব্যগ্রন্থ-

সাত ভাই চম্পা (১৯৫৩), বিষকন্যা (১৯৫৫), কুচবরণ কন্যে (১৯৭৭), আরশিনগর (১৯৮৪), দাঁড়াও পথিকবর (১৯৯০), তালেব মাস্টার ও অন্যান্য কবিতা, উত্তর আকাশের তারা, তিরিশ বসন্তের ফুল ইত্যাদি।

শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬)

ষাটের দশকের অন্যতম ও বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ আধুনিক কবি শামসুর রাহমান। কাব্যচর্চার মাধ্যমেই কেবল অনবরত আধুনিকতার শিখরে আরোহণ করে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

কাব্যগ্রন্থ-

প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে, বিদ্ধস্ত নীলিমা, বন্দী শিবির থেকে, বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ, বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, হেমন্ত সন্ধ্যায় কিছুকাল, নিরালোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, আদিগন্ত নগ্নপদধ্বনি, আমি অনাহারী, দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছা করে, তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, বারবার ফিরে আসে ইত্যাদি।

হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২-১৯৮৩)

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সংকলক হাসান হাফিজুর রহমান।

কাব্যগ্রন্থ-

বিমুখ প্রান্তর, আর্ত শব্দাবলী, অন্তিম শরের মতো, যখন উদ্যত সঙ্গীন, শোকার্ত তরবারি

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩২-২০০১)

কাব্যগ্রন্থ-

সাতনরী হার, কখনো রঙ কখনো সুর, কমলের চোখ, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, আমার সময়, সহিষ্ণু প্রতীক্ষা, বৃষ্টি ও সাহসী পুরিষের জন্য প্রার্থনা, নির্বাচিত কবিতা, আমার সকল কথা ইত্যাদি।

  • ‘কোন এক মাকে’ কবিতাটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।

আলাউদ্দিন আল আজাদ (১৯৩২-২০০৯)

কাব্যগ্রন্থ-

মানচিত্র, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, মানচিত্র

সৈয়দ শামসুল হক (২৭ ডিসেম্বর,১৯৩৫- ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬)

তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন সব্যসাচী লেখক।

আলোচিত গ্রন্থসমূহ-

খেলারাম খেলে যা, নিষিদ্ধ লোবান, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নুরুলদীনের সারাজীবন, পরাণের গহীন ভিতর (আঞ্চলিক ভাষারীতিতে রচিত)

কাব্যগ্রন্থ-

একদা এক রাজ্যে, প্রতিধ্বনিগণ, নাভীমূলে ভস্মধারা, বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, অপর পুরুষ, বিরিতিহীন উৎসব, অগ্নি ও জলের কবিতা, তোমারি সন্ধানে, কাননে কাননে, আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯ )

আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহ্মুদ। বাংলা সাহিত্যে এই কবির শ্রেষ্ঠ অবদান তাঁর ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ যা তাঁর রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

কাব্যগ্রন্থ-

লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, বখতিয়ারের ঘোড়া, মিথ্যেবাদী রাখাল, একচক্ষু হরিণ, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, প্রহরান্তের পাশফেরা, পাখির কাছে ফুলের কাছে, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, আমি দূরগামী, আল মাহমুদের প্রেমের কবিতা, দোয়েল ও দয়িতা, প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০)

তিনি পরাবাস্তববাদী কবি। ‘অশোক সৈয়দ’ তাঁর ছদ্মনাম।

কাব্যগ্রন্থ-

জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ, জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা, ও সংবেদন ও জলতরঙ্গ, কবিতা কোম্পানী প্রাইভেট লিমিটেড, পার্ক স্ট্রীটে এক রাত্রি, নীরবতা গভীরতা দুই বোন বলে কথা ইত্যাদি।

আসাদ চৌধুরী (১৯৪৩- )

কাব্যগ্রন্থ-

বিত্ত নাই বেসাত নাই, দুঃখীরা গল্প করে, মেঘের জুলুম পাখির জুলুম, প্রশ্ন নেই উত্তরে পাহাড়, আমার কবিতা, নদীও বিবস্ত্র হয়

নির্মলেন্দু গুণ (১৯৪৫-২০২০ )

কাব্যগ্রন্থ-

প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, কবিতা অথবা অমীমাংসিত রমণী, মুঠোফোনের কাব্য, দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, চৈত্রের ভালোবাসা, বাংলার মাটি বাংলার জল, তাঁর আগে চাই সমাজতন্ত্র, চাষাভূষার কাব্য, পৃথিবী জোড়া গান, প্রথম দিনের সূর্য, নিরঞ্জনের পৃথিবী, অচল পদাবলী, দূর হ দুঃশাসন, আনন্দ উদ্যান, দুঃখ করো না-বাঁচো ইত্যাদি।

হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭-২০০৪)

কাব্যগ্রন্থ-

অলৌকিক ইস্টিমার(১৯৭৩), জ্বলোচিতাবাঘ(১৯৮০), সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে(১৯৮৫), যতই গভীরে যাই মধু, যতই উপরে যাই নীল(১৯৮৭)।

error: Content is protected !!