বহুমেরু বিশ্ব ব্যবস্থা

বহুমেরু বিশ্ব ব্যবস্থা

  • বিশ্ব রাজনীতি কী?

বিশ্বের স্বাধীন দেশসমূহ যে পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মেনে চলে, কখনো দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য বিভিন্ন সভা, সেমিনার বা সম্মেলনের আয়োজন করে, প্রয়োজনে MOU/APA স্বাক্ষর করে, এমনকি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ঘোষণাও দিয়ে থাকে তাই বিশ্ব রাজনীতি। বর্তমানে বিশ্বরাজনীতির পরিবর্তে বিশ্বব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

  • MOU: যখন দুটি দেশ কোনো একটি বিষয়ে একমত হয়ে একই নীতিমালা স্বাক্ষর করে
  • APA: Annual Performance Agreement

বিশ্বব্যবস্থা তত্ত্বের জনক- আমেরিকার দার্শনিক ইমানুয়েল ওয়ালারস্টেইন

বহুমেরু বিশ্বের রাজনীতিঃ

  • ১৯৪৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত আন্তঃরাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্ব, ধর্ম ও রাজনীতিকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ, এমনকি অন্য দেশের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত হয়েছে। যেমনঃ ১ম ও ২য় বিশ্বযুদ্ধ। এজন্য ১৯৪৫ সালের পূর্ববর্তী সময়কে বহুমেরু বিশ্ব বলা হয়।
  • ১৬১৮-১৬৪৮ সাল পর্যন্ত ইউরোপে ধর্ম ও রাজনীতিকে কেন্দ্র করে ৩০ বছরব্যাপী যুদ্ধ হয়। ১৬৪৮ সালে জার্মানীতে Westphalia শান্তিচুক্তির মাধ্যমে এ যুদ্ধ শেষ হয়। এজন্য ১৬৪৮ সালের পরবর্তী সময়কে Westphalian ব্যবস্থা নামে ডাকা হয়।

    ১৭ শতক পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থাঃ
  • ১৮৫৩-১৮৫৬ সালে রাশিয়া এবং তুরষ্কের মধ্যে ক্রিমিয়া যুদ্ধ হয়।
  • ১৮৭০ সালে জার্মানী ফ্রান্সের ২টি শহর- আলসেস ও লরেন দখল করলে ইউরোপ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। একদিকে জার্মানী ও ইতালি, এবং অপরদিকে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স- এই বিভক্তির ফলে ইউরোপে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে তা ১৯১৪ সালে ১ম বিশ্বযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়। ১৯১৮ সালে যুদ্ধ শেষ হয়।

১ম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা

  • ১ম বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ প্রায় ১৪০০ বছরের দ্বন্দ্ব অবসানের জন্য আমেরিকাজেকটি পদক্ষেপ নেয়। যদিও এর পেছেনে আমেরিকার ২টি উদ্দেশ্য ছিলো। তা হলো- *ইউরোপীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে বিশ্ব রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা *আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হওয়া।
  • এই দুটি নীতি বাস্তবায়নের জন্য আমেরিকার ২৮তম প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৪ দফা সংবলিত একটি নীতি প্রণয়ন করেন যাকে Self Determination Policy বা আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার নীতি বলা হয়। এটি ১৪ দফা নামে অধিক পরিচিত।

১৪ দফার কয়েকটি দফা

  • ৮ নং দফায় বলা হয়েছে ফ্রান্সের আলসেস-লরেন ফিরিয়ে দিতে হবে। এই দফার কারণে আমেরিকা-ফ্রান্স মিত্রতা হলেও আমেরিকা-জার্মানী শত্রুতা শুরু হয়।
  • ১৪ নং দফায় বলা হয়েছে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর ফলশ্রুতিতে ১৯১৯ সালে “লীগ অব নেশনস” বা “জাতিপুঞ্জ” গঠিত হয় যা ২০ জানুয়ারী, ১৯২০ থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

    লীগের ব্যর্থতা
  • আমেরিকা লীগের সদস্য না হওয়ায় জার্মানী ও তার মিত্র দেশসমুহ সদস্যপদ প্রত্যাহার করে। এর প্রেক্ষিতে আমেরিকা-জার্মানী নতুন দ্বন্দ্ব দেখা যায় এবং এ সময়কে  “শান্তির অন্তরালে যুদ্ধের প্রস্তুতির যুগ” বা  Age of Armed Peace বলা হয়। এর সময়কাল ১৯১৯-১৯৩৯ সাল পর্যন্ত (২০ বছর)।
আরো জানতে পড়ুন একমেরু বিশ্বব্যবস্থা এবং দ্বিমেরু বিশ্বব্যবস্থা


		
		
			
error: Content is protected !!