দ্বিমেরু বিশ্ব ব্যবস্থা

দ্বিমেরু বিশ্ব ব্যবস্থা

আরও জানতে পড়ুন একমেরু বিশ্বব্যবস্থা 

২য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু

লীগ অব নেশনস-এর ব্যর্থতা জার্মানী ও আমেরিকার দ্বন্দ্বকে ২য় বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়। ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ২য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৪৫ সালে শেষ হয়। এই যুদ্ধের দুটি পক্ষ ছিলো যাদের অক্ষশক্তি (Axis Power) ও মিত্রশক্তি (Allied Power) বলা হয়। ২য় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি জয়লাভ করে।

  • অক্ষশক্তি- জার্মানী, ইতালি, জাপান
  • মিত্রশক্তি- আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া

কোনো যুদ্ধে যে সকল দেশ প্রথমে আক্রমণ করে তাদের অক্ষশক্তি বলে। একইভাবে, প্রতিহত করার জন্য যারা আক্রমণ করে তাদের মিত্রশক্তি বলে।

২য় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পরাজয়ের পরে আমেরিকা বৈশ্বিক আধিপত্য সৃষ্টি করে পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিলে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাতে বাঁধা দেয় এবং নিজেদেরকে বিশ্বনেতা ঘোষণা দিয়ে বিশ্বব্যাপী সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এভাবেই বিশ্বব্যবস্থা বহুমেরু থেকে দ্বিমেরু বিশ্ব ব্যবস্থা হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

দ্বিমেরু বিশ্বের রাজনীতি

১৯৪৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্রের আদর্শকে কেন্দ্র করে যে বিশ্বব্যবস্থা তৈরি হয়েছিলো তাকে দ্বিমেরু বিশ্ব বা স্নায়ুযুদ্ধ বা পূর্ব-পশ্চিম যুদ্ধ বা Cold War নামে ডাকা হয়।

  • স্নায়ুযুদ্ধ কী?

যখন দুই বা ততোধিক রাষ্ট্রের মধ্যে কোন নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে যুদ্ধের পরিবেশ বিরাজ করে কিন্তু প্রকৃত যুদ্ধ হয় না তাকে স্নায়ুযুদ্ধ বলে।

  • পুঁজিবাদ কী?

পুঁজিবাদ একটি অর্থনৈতিক আদর্শ যেখানে সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্র, জনগণ বা যে কোন ব্যক্তি হতে পারে। এমনকি সবাই মুনাফা ও পুঁজি গথন করতে পারে।

  • সমাজতন্ত্র কী?

যে অর্থনৈতিক আদর্শে সকল সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে তাকে সমাজতন্ত্র বলে।

  • সমাজতন্ত্র উৎপত্তির কারণ

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় কোম্পানির মালিক দ্বারা কর্মচারি/শ্রমিকরা শোষিত হতে থাকে। এই শোষণের প্রতিবাদ হিসেবে কার্ল মার্ক্স সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সমাজতন্ত্রের ধারণা দেন। তাই কার্ল মার্ক্সকে সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয়।

স্নায়ুযুদ্ধের শুরুতে আমেরিকা কর্তৃক পূর্ব-ইউরোপের দেশগুলিতে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়ার জন্য আমেরিকা প্রণীত নীতির নাম- ERP (European Recovery Plan)

ERP এর প্রধান বিষয়াবলী তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ মার্শাল প্রণয়ন করেন।এজন্য এর অপর নাম মার্শাল প্লান।

ERP-র তথ্য সংগ্রহের জন্য রাশিয়া যে সংস্থা গঠন করেছিল তা COMINFORM (Communist Information Bureau) নামে পরিচিত। ERP-র বিকল্প হিসেবে রাশিয়া যে নীতি গ্রহণ করে তা COMECON (Council of Mutual Economic Assistance) নামে পরিচিত।

১৯৪৯ সালের ৪ঠা এপ্রিল আমেরিকার নের্তৃত্বে ১২টি দেশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট Trueman এবং তৎকালীন সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির প্রধান ভান্ডেন বার্গের সুপারিশে বিশ্বের ১ম সামরিক জোট NATO( North Atlantic Treaty Organization) গঠিত হয়।

১৯৫৫ সালের ১৪মে NATO-র বিকল্প হিসেবে ৮টি দেশ নিয়ে Poland-এর রাজধানী Warsaw-তে রাশিয়া একটি সামরিক জোট গঠন করে। এই জোটকে Warsaw Pact বলা হয়।

১৯৮১ সালে(৯০ এর দশকের শুরুতে) Ronald Regan চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হয়েও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। স্নায়ুযুদ্ধ নিরসনে রিগ্যান ২টি নীতি গ্রহণ করেন-

  • হ্যাঁ নীতি (Yes Policy)
  • না নীতি (No Policy)

এসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন চ্যারেনকো।

১৯৮৫ সালে চ্যারেনকো স্ট্রোক করে মারা যান। ১৯৮৫ সালেই সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হন মিখাইল গর্ভাচেভ। তিনি ১৯৮৭ সালে ২টি নীতি গ্রহণ করেন-

  • গ্ল্যাস্তনস্ত (খোলামেলা আলোচনা)
  • প্যারোস্ত্রাইকা (সংস্কারমূলক আলোচনা)

এই নীতিমালা গ্রহণের ফলে ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর USSR ( Union of Soviet Socialist Republic) ভেঙ্গে ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। যার ১টি হলো বর্তমান রাশিয়া। এই ভাঙ্গনের মধ্য দিয়ে আমেরিকা স্নায়ুযুদ্ধে জয়লাভ করে এবং বিশ্বব্যবস্থা দ্বিমেরু থেকে একমেরুতে রূপান্তরিত হয়ে যায়।

আমাদের আগের পোস্টে বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 
error: Content is protected !!