বাংলাদেশের একটি অন্যতম উদ্যোগ হচ্ছে ডেল্টা প্লান-২১০০

ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ কি?

ডেল্টা পরিকল্পনা হল দীর্ঘমেয়াদি, একক এবং সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা।

>দীর্ঘমেয়াদি বলতে বোঝায় পরিকল্পনার লক্ষ্য – ২১০০। একক হল দেশের সব পরিকল্পনার আন্তযোগাযগের মাধ্যমে একক ডেল্টা।

>সমন্বিত বলতে বোঝায় পানি সম্পর্কিত সকল খাতকে একটি পরিকল্পনায় নিয়ে আসা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পানির নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় তৈরি হওয়া শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বা ডেল্টা প্লান।

ডেল্টা পরিকল্পনা, কৌশল সমূহের টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে ডেল্টা ভিশনে পৌঁছাতে সাহায্য করে। জলবায়ু পরিবর্তন এ সময়ে খুবই আলোচিত বিষয়, যার প্রভাবের ফলাফল আমরা এখন তিক্ততা নিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগ করছি। আর এই কারণেই বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা (A Bangladesh Delta Plan)।

>২০৫০ সালে দেশটির ১৪% শতাংশ এলাকা নিমজ্জিত হবে।পরিনামে ৩০ মিলিয়ন লোক জলবায়ু শরণার্থীতে পরিনত হবে।

>জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙ্গন, পানি দূষণের মত হুমকি মারাত্মক আকার ধারন করছে।

>এর একটা উল্লেখযোগ্য পটভূমি হচ্ছে sea level rise তথা সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি।

বাংলাদেশের মত নেদারল্যান্ড ও একটি ব-দ্বীপ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের মত তারাও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাই বাংলাদশে ও নেদারল্যান্ড একত্রে ডেল্টা পরিকল্পনায় কাজ করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া প্রকল্পটি হলো ‘ Towards a Bangladesh Delta Plan’। এই প্রকল্পের ফলাফল রচিত হবে ৫০ থেকে ১০০ বছরের একটি সমন্বিত এবং টেকসই পরিকল্পনার কাজের উপর ভিত্তি করে। এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য, আমাদের নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করা এবং দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা।

টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় ধাপগুলো কি কি?

বিভিন্ন তুলনামূলক বিশ্লেষণে আমাদের টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় নিম্নলিখিত ধাপগুলো একটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হতে পারে, যেখানে আর্থ-সামাজিক এবং পরিবেশগত বিষয়ে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

ধাপগুলো হলো-

১) একটি পদ্ধতিগত উন্নয়ন, যেখানে বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান এবং এর সমস্ত সম্ভাব্য দিকগুলোর সঙ্গে আমাদের জীববৈচিত্র্যের একটি সম্পর্ক ও স্থিতিস্থাপকতা বিশ্লেষণ।

২) ডেল্টা প্লানের উদ্দেশ্যকে সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা, যা কিনা আর্থ-সামাজিক এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। যেমন, এক্ষেত্রে ডাচ কমিশনের ওই আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করে সফলতার মাপকাঠি নির্ধারণ করা।

৩) কৌশলগত ধাপগুলো নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্যগুলোকে একটি নীতির ফ্রেমে আর্থিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সম্পদ রক্ষা প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে এগোনো। এক্ষেত্রে নমনীয় (flexible) কাজের পরিবেশ এবং বিনিয়োগের উপর যথেষ্ট রিটার্ন নিশ্চিত করে কৌশল ঠিক করা।

৪) কৌশলগত অবলম্বনে ডেল্টা প্লান প্রকল্পের কাজগুলোকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী হিসেবে কর্ম পরিকল্পনা করা।

৫) কিছু পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন সংক্রান্ত সারঞ্জাম তৈরি কর‍া, যা পুরো বিষয়গুলোকে ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করার জন্য সক্ষম। এখানে টেকসই উন্নয়ন এর সূচক, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং “life cycle evaluation” অন্তর্ভূক্ত থাকবে।

ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে। এখন প্রশ্ন হতে পারে, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কেন প্রয়োজন?

এর কারণ হলো, নদী ব্যবস্থাপনায় এই দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের মিনিস্ট্রি অব ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড দি এনভায়রনমেন্ট এই নীতিমালায় পানি ব্যবস্থাপনার ইতিহাস, কাজের প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত পানির ব্যবহার, পানির ঘাটতি ও খরা, পানির গুণগত মানের উন্নয়নের বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

নেদারল্যান্ডস বিশেষজ্ঞ দল বেশ ভালভাবেই এ ধরনের কাজে দক্ষ। তাছাড়া, পানি বাবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তি ইতোমধ্যে বিশ্বজোড়া অনন্য এক স্বীকৃতি পেয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান থেকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দুই দেশই উপকূলবর্তী ও বন্যাপ্রবণ। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে,পানি অব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশে প্রতিবছর অনিয়ন্ত্রিত বন্যা হয়। আর নেদারল্যান্ডস এ ক্ষেত্রে সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে বন্যা থেকে সুরক্ষিত থাকে। একইসঙ্গে ডাচরা নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহও করে থাকে দারুণভাবে। নেদারল্যান্ডস সরকার ১৯৫৩ সাল থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের ডেল্টা প্লানকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই বিষয়ে ডাচ ডেল্টা কমিশন আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছে। বিষয়গুলো হলো- পানি, বসত, কাজ ও নিয়োগ, চিত্ত বিনোদন,কৃষি, প্রকৃতি, অবকাঠামো (গণপূর্ত) এবং স্থানিক (Spatial) পরিকল্পনা।

তবে সবকিছুর মূলে ডাচ পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য দু’টি- ১) বন্যা নিয়ন্ত্রিত দেশ এবং ২) নাগরিকদের পর্যাপ্ত সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা।

কেন নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে ৬০ বছরব্যাপী ডেল্টা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে?

এ বিষয়টি নিয়ে যদি পর্যালোচনা করা যায় তাহলে অনেক জটিল পানিসংক্রান্ত সমস্যা নিরসন করা সম্ভব। এ দেশটির এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নিচু স্থানে অবস্থিত। সবচেয়ে নিচু স্তরের গভীরতা ৬.৭ মিটার। এতে ওই অঞ্চলটি পানির নিচে ডুবে থাকার কথা। এ দেশের সিফল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সমুদ্রপৃষ্ঠের চার মিটার নিচে থাকায় জলাভূমি হিসেবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। কিন্তু সুষ্ঠু পানিব্যবস্থার মাধ্যমে তারা এই সমস্যাকে সমাধান করে এখন এই অঞ্চলটিকে পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।

অনেকেই ধারণা করেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রের উপকূলবর্তী অঞ্চল বিলীন হয়ে যেতে পারে। এর কারণ সমুদ্রের পানির উচ্চতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এ পরিকল্পনার মাধ্যমে এটিকে কিভাবে রোধ করে সমুদ্রাঞ্চল উন্নয়নের অবকাঠামো গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। এ ছাড়া জাতিসংঘ প্রণীত টেকসই উন্নয়নের ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ডেল্টা প্ল্যানের বিভিন্ন পরিকল্পনাকে সমন্বিত করার মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব যেমন এ পরিকল্পনার মাধ্যমে কমাতে হবে, তেমনি জলবায়ুর পরিবর্তনকেও বিবেচনায় রাখতে হবে। এর মাধ্যমে কৃষি, ভূমি, পানিসম্পদ, শিল্প, বনায়ন ও মৎস্যসম্পদসহ অন্যান্য সম্পদকে এ পরিকল্পনার আওতায় এনে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নকে সমন্বিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা ও মেঘনার ৯৩ শতাংশ অববাহিকা ও উৎস ভারত, নেপাল ও ভুটানে রয়েছে। এর সঙ্গে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর পরিকল্পনার সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর নদী ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাকে কিভাবে সমন্বিত করে সবার স্বার্থ সংরক্ষণ করে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যায়, তার কর্মকৌশল গ্রহণ করতে হবে। ভৌগোলিক ও পরিবেশগত ভিন্নতার কারণে ইউরোপ বা আমেরিকার মতো পানি ব্যবস্থাপনাকে অনুসরণ না করে আমাদের দেশের নিজস্ব উপাদানকে বিবেচনা করে প্রযুক্তিগত বিষয়টি ভাবতে হবে। এর কারণ হলো, বাংলাদেশের পরিবেশগত বিষয়টি নিত্য পরিবর্তনশীল হওয়ায় এখানে লবণাক্ততা, পলি, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো ঘটনাগুলো ঘটে। এর সঙ্গে মাটির প্রকৃতি, পানির উপাদান, গাছপালার ওপর প্রভাবসহ এ ধরনের উপাদানগুলো পরিবর্তিত হয়।

বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-তে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা

বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-তে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিষয়ের অন্যতম হলো ‘আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনা’।

এ অধ্যায়ে উজানের নদীসমূহে পানি ব্যবহারের বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে সে অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উজানের পানি প্রবাহের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতেউপযুক্ত স্থান নির্বাচনপূর্বক প্রয়োজনে দেশের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য বাঁধ বা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয় বিবেচনা; পানিসংক্রান্ত কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধান এবং সংঘাত প্রতিরোধ; তিস্তাসহ অন্যান্য সকল আন্তঃদেশীয় নদীর পানি বন্টন সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদন তত্পরতা অব্যাহত রাখা; চাহিদাভিত্তিক যৌথ নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ; পানিসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তৃতীয় পক্ষকে (বহুপক্ষীয় বা দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দেশ) সম্পৃক্তকরণ; অববাহিকাভিত্তিক বন্যা পূর্বাভাস পদ্ধতির উন্নয়ন; এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতার মাধ্যমে উজানের নদীসমূহের বিস্তর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং তা বিচার বিশ্লেষণের মত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ পরিকল্পনায় ‘ব-দ্বীপ বিষয়ক জ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো’ গড়ে তোলার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লব্ধ ডেল্টা সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক জ্ঞান সংকলন করে একটি ডিজিটাল নলেজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা; ডেল্টা উপাত্ত ব্যাংক স্থাপন, সমন্বিত ডেল্টাবিষয়ক জ্ঞান এবং উপাত্ত সংগ্রহ,হালনাগাদকরণ এবং প্রয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ মহাপরিকল্পনায় নদী খনন ও শীতকালের জন্য বর্ষা মৌসুম শেষে পানি সংরক্ষণাধার তৈরির ব্যাপক প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে।

এখন নজর দেওয়া যাক বাংলাদেশ ডেল্টা প্লানের দিকে। কতটুকু টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আমরা এই পরিকল্পনা হাতে নিতে পেরেছি?

>বিভিন্ন পরিবর্তন ও পরিবর্তনের উপাদানগুলো বিবেচনা করে এগুলোর ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এর সঙ্গে নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে এনে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তিগত ও আর্থ-সামাজিক কর্মকৌশল গ্রহণ করে এটিকে এ পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে। এ পরিকল্পনায় ছয়টি হটস্পট নির্ধারণ করে সেখানে ৩৩ ধরনের চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করা হয়েছে। হটস্পটগুলো হচ্ছে—উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, নদী ও মোহনা অঞ্চল ও নগরাঞ্চল। এ অঞ্চলগুলোকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। জীববৈচিত্র্য, সুন্দরবন সংরক্ষণ, বাঁধ-ব্যারাজ সংস্কার ও নির্মাণ, বিভিন্ন নদীতে জেগে ওঠা চর, মোহনার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ ভিশন ২০২১ ও ২০৪১-এর লক্ষ্য অর্জনে সামগ্রিকভাবে এর সঙ্গে যুক্ত প্রধান উপাদানগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ও নেতৃত্বের মাধ্যমেই ১০০ বছরমেয়াদি এ পরিকল্পনা স্বপ্ন থেকে এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের দেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জায়গায় পানির স্তর ৪-১০ মিটার পর্যন্ত কমে গেছে। গবেষণার মাধ্যমে বৃষ্টি ও বন্যার পানিকে কিভাবে সংরক্ষণ করে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা যায়, তা এই মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আমেরিকার সয়েল অ্যান্ড ওয়াটার কনজার্ভেশন সোসাইটি বিভিন্ন ধরনের মাটির ক্ষয় রোধের প্রযুক্তি বের করেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও মাটির ক্ষয় রোধে গবেষণার কাজ চলছে। এখান থেকে ধারণা নিয়ে কিভাবে আমরা নিজস্ব পদ্ধতিতে মৌলিক ও ফলিত গবেষণার মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ করতে পারি, সে বিষয়টি নিয়ে আরো বেশি করে ভাবার সময় এসেছে।

error: Content is protected !!